ওয়াজেদ আলী খান পন্নীর শিক্ষাভাবনা
- Ahmed Din Rumi

- 5 days ago
- 6 min read
প্রতিনিধিবর্গ ও সভ্য মহোদয়গণ,
আধুনিক রীতি-পদ্ধতি অনুযায়ী শিক্ষালাভই যে মুসলমানগণের সাংসারিক ও নৈতিক উন্নতির সোপান, তাহা এখন তাঁহারা বুঝিতে পারিয়াছেন; ইহাকে সময়ের সংকেতই বলিতে হইবে। হঠাৎ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ায় মুসলমানগণ কিছুকালের জন্য কর্তব্যবিমূঢ় হইয়াছিলেন এবং বুঝিতে পারেন নাই যে, কোন পথে চলিলে তাঁহাদের উন্নতি হইবে। সময় এবং অবস্থার পরিবর্তন, দৈনন্দিন কার্যক্রমে প্রতিযোগিতার কঠোর নিষ্পেষণ এবং তাঁহাদের ক্রমাগত অধঃপতন তাঁহাদিগকে নিজেদের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করিতেছে। সৌভাগ্যের বিষয়, তাঁহাদের এই শোচনীয় অবস্থা কেবল যে তাঁহাদিগকে চৈতন্য যুক্ত করিয়াছে তাহাই নহে, দয়াবান ন্যায়পরায়ণ গভর্নমেন্টের মনোযোগও তাঁহাদের দুরবস্থার প্রতি আকৃষ্ট হইয়াছে। মুসলমানগণের জ্ঞানচক্ষুর উন্মীলন এবং গভর্নমেন্টের সাধু অনুষ্ঠান এই প্রদেশের মুসলিম শিক্ষায় এক বিপুল পরিবর্তন ঘোষণা করিতেছে।
শিক্ষা কি এবং বর্তমান সময়ে কিরূপ শিক্ষা মুসলমানগণের জন্য উপযোগী এটি একটি বিবেচনার বিষয় হইয়া দাঁড়াইয়াছে। শিক্ষা শব্দের বাস্তবিক তাৎপর্য হইল—মনুষ্য-মনোবৃত্তির সম্যক পরিস্ফুটন, শারীরিক, মানসিক এবং নৈতিক বৃত্তিগুলির উৎকর্ষলাভ। অর্থ না বুঝিয়া কেবল কতকগুলি পুস্তক মুখস্ত করা এবং জীবনে তা বাস্তবায়িত না করা প্রকৃত শিক্ষা নহে। এইরূপ শিক্ষাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে কবি সাদী যথার্থই অশিক্ষিত বলিয়াছেন।… তাহাকেই প্রকৃত শিক্ষা বলিব যে শিক্ষা আমাদিগকে অতীতকালের জ্ঞান সম্পর্কে জ্ঞাত করিবে; আল্লাহ্, শাসনকর্তা এবং সমাজের প্রতি আমাদের যে দায়িত্ব রহিয়াছে, তা উপলব্ধি করাইয়া দিবে। এদেশে বর্তমানে যে প্রণালীর শিক্ষা প্রচলিত আছে তাহাতে আমাদের উপরোক্ত আদর্শ পুরাপুরি সাধিত হয় না, কারণ এ শিক্ষায় ধর্ম শিক্ষার কোন ব্যবস্থা নাই। আমাদের শাসনকর্তাগণ ভিন্ন দেশ হইতে তাঁহাদের নিজস্ব আদর্শ লইয়া আসিয়াছেন; প্রজাদের উন্নতি সাধনে তাঁহাদের আন্তরিক অভিপ্রায় থাকিলেও তাঁহারা যে সকল সদনুষ্ঠান করিয়াছেন, তাহা দ্বারা আমাদের সকল উদ্দেশ্য সাধিত হয় না। ভারতবর্ষ একটি দেশ নহে, ইহাকে একটি মহাদেশ বলিলেও অত্যুক্তি হয় না; এই দেশে নানা জাতির বাস এবং প্রত্যেক জাতিরই আদর্শ ও আশা-আকাঙ্খা প্রায় ভিন্ন। সুতরাং সকল জাতির উপযোগী হইতে পারে এরূপ কোন নীতি প্রণয়ন করা অতি দূরদর্শী এবং জ্ঞানবান রাজনীতিজ্ঞ ব্যক্তির পক্ষেও অতি কঠিন হইয়া দাঁড়াইয়াছে। ফল ইহাই দাঁড়াইয়াছে যে, রাজপুরুষেরা ধর্মশিক্ষাকে শিক্ষার অংগ হইতে একেবারে পৃথক করিয়া রাখিয়াছেন। বলা বাহুল্য ধর্মশিক্ষাই মনুষ্য-চরিত্র গঠনের প্রধান উপাদান। এইরূপ শিক্ষা দ্বারা কেবল মানসিক বৃত্তিগুলির বিকাশ ঘটে, কিন্তু ধর্মীয় মনোবৃত্তি খর্ব হয়। নিজ নিজ ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রতি ছাত্রগণের বিশেষ ঝোঁক থাকা সত্ত্বেও তাহারা এই শিক্ষার ফলে সেদিকে যাইতে পারিতেছে না। পৃথিবীতে যতগুলি বড় বড় ধর্ম প্রচলিত আছে, প্রায় সবগুলিরই এশিয়া মহাদেশে উদ্ভব হইয়াছে; সুতরাং এশিয়াবাসী ধর্মভীরু না হইয়া পারে না। প্রকৃত এশিয়াবাসীর ইহাই মৌলিক বৈশিষ্ট্য। সুতরাং স্বভাবতই আমাদের মনোযোগ এই দিকে আকৃষ্ট হয়। আমরা ইহাকে উপেক্ষা করিতে পারি না। ইহা আনন্দের বিষয়, দয়াবান গভর্নমেন্টের এবং সমাজের চিন্তাশীল ব্যক্তিদের মনোযোগ এই দিকে ধাবিত হইয়াছে এবং শিক্ষার দোষ-ত্রুটি দূর করার চেষ্টাও হইতেছে। বর্তমানে ভারতের মুসলমান নেতাগণ আলীগড়ে মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করিতেছেন এবং তাঁহারা অবিলম্বে কৃতকার্য হইবেন বলিয়া আশা করা যায়। আনন্দের বিষয়, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পার্থিব শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মশিক্ষারও ব্যবস্থা করা হইবে।
মহোদয়গণ, আমি পূর্বেই নিবেদন করিয়াছি যে, কেবল মানসিক বৃত্তির পরিস্ফুটনের দিকে দৃষ্টি রাখিলে আমাদের শিক্ষার প্রকৃত আদর্শ কখনও অর্জিত হইবে না। শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য সফল করিতে হইলে কি ধর্মশিক্ষা, কি পার্থিব শিক্ষা-উভয় শিক্ষার প্রতিফলনই লোকের দৈনিক কার্যকলাপে ঘটাইতে হইবে। অন্যদিকে, যদি কেবলমাত্র মানসিক বৃত্তিগুলির পস্ফুিটনের দিকে দৃষ্টি রাখা হয় এবং দেহ গঠনের দিকটি উপেক্ষা করা হয়, তবে বাস্তবিকই ছাত্রগণ তাহাদের কর্তব্য কার্য সুচারুরূপে পালন করিতে সক্ষম হইবে না। দুঃখের বিষয়, আমাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান তথা মক্তব ও মাদ্রাসাগুলিতে এই বিষয়ের প্রতি মোটেও মনোযোগ দেওয়া হয় না। এখানে ইহা উল্লেখ করা বোধ হয় অপ্রাসংগিক হইবে না যে, শিক্ষায় পশ্চাদপদ হওয়া সত্ত্বেও স্বীকৃত ও প্রতিষ্ঠিত সরকারের প্রতি আমাদের ছাত্রগণের রাজভক্তি বাস্তবিকই প্রশংসনীয়।
মহোদয়গণ, যদি আমরা মুসলমানগণের শিক্ষা সম্বন্ধে আলোচনা করি এবং অতীতের সহিত বর্তমান সময়ের তুলনা করি, তাহা হইলে দেখিতে পাইব যে, গভর্নমেন্টের উদার সাহায্যে অত্র প্রদেশের মুসলমানগণ শিক্ষায় ক্রমশঃই অগ্রসর হইতেছে। প্রাথমিক শিক্ষায় মুসলমান ছাত্রগণ প্রায় তাহাদের উপযুক্ত স্থান অধিকার করিয়াছে। প্রাইমারি স্কুলে উর্দুর প্রচলন এবং মক্তবসমূহে বৈষয়িক বিষয় শিক্ষার প্রচলনই ইহার কারণ বলিয়া অনুমিত হয়। এই শিক্ষা সাধারণ মুসলমানের কাছে খুবই জনপ্রিয়তা লাভ করিয়াছে। কিন্তু উচ্চ শিক্ষায় আমাদের উন্নতি সন্তোষজনক বলিয়া মনে হয় না। ইহার কারণ অনুসন্ধান করার জন্য অধিক দূরে যাইতে হইবে না। দুঃখের বিষয়, মুসলমানরা যখন তাঁহাদের পশ্চাৎপদতা বুঝিতে পারিলেন এবং সাধারণ উচ্চ শিক্ষার দিকে ধাবিত হইলেন, তখন শিক্ষার বর্ধিত ব্যয়, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা বিভাগের কঠোর নিয়মসমূহ তাহাদের অন্তরায় হইয়া দাঁড়াইল। এই সকল কঠোর নিয়ম অবশ্য উচ্চ শিক্ষার উৎকর্ষ সাধনের উদ্দেশ্যেই প্রণীত হইয়াছে, কিন্তু সকলের ইহা স্মরণ রাখা উচিত যে, আমরা হৃত গৌরব উদ্ধারের জন্য কেবলমাত্র অগ্রসর হইতে আরম্ভ করিয়াছি, বিশেষতঃ আমরা অত্যন্ত দরিদ্র; সুতরাং বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং গভর্নমেন্টের কঠিন নিয়ম আমাদের ব্যাপারে কিছু সহজ করা কর্তব্য। আমি আশা করি, আমাদের সমিতি এই বিষয়টি যথাযথভাবে আলোচনা করিবেন এবং কর্তব্য স্থির করিয়া গভর্নমেন্টের নিকট সেগুলি বিবেচনার জন্য আবেদন করিবেন। কিন্তু সভ্যগণ, আমাদের অভাব দূরীকরণের উদ্দেশ্যে কেবল এক গভর্নমেন্টের উপর নির্ভর করা আমাদের উচিত নহে। উদ্দেশ্য সাধনের জন্য আমাদিগকে নিজের চেষ্টার উপরও নির্ভর করিতে হইবে। পূর্ববর্তী শিক্ষা সমিতির অধিবেশনেও এই বিষয়ের প্রতি আমাদের মনোযোগ আকৃষ্ট করা হইয়াছে এবং প্রত্যেক জেলায় বিভিন্ন উপায়ে জাতীয় শিক্ষা তহবিল গঠনের পরিকল্পনা করা হইয়াছে। কিন্তু বড়ই আক্ষেপের বিষয়, যদিও গভর্নমেন্ট আমাদের অনেক আবেদনের প্রতি সানুকম্পসাড়া দিয়া আমাদিগকে নানাভাবে সাহায্য করিয়াছেন, কিন্তু প্রকৃত পক্ষে আমরা কোন উদ্যোগ এ পর্যন্ত গ্রহণ করি নাই। শিক্ষার উন্নতিকল্পে স্থানে স্থানে কিছুটা উদ্যম দৃষ্টিগোচর হইয়াছে বটে কিন্তু যৌথ চেষ্টা এখনও দেখা যাইতেছে না। মহোদয়গণ, কেবল সমিতির বার্ষিক অধিবেশন অনুষ্ঠান এবং কতগুলি সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোন ফল হইবে না। ঐ সকল সিদ্ধান্তকে প্রত্যেক ব্যক্তির নিজের কর্তব্য বলিয়া গণ্য না করা হইলে এবং বিশ্বস্তরূপে তাহা কার্যে পরিণত না করা হইলে কোন উপকার সাধিত হইবে না। আমার মতে, প্রত্যেক জেলা-সমিতির অধীনে প্রতি ইউনিয়নে মুসলমান শিক্ষা সমিতির এক-একটি শাখা প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত। এই সব শাখা-সমিতি পর্যাপ্ত অর্থ সংগ্রহ করিয়া পল্লীতে পল্লীতে প্রাইমারি বিদ্যালয় স্থাপন করিবেন এবং প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষার বিস্তারকল্পে কতক বৃত্তির ব্যবস্থা করিবেন। প্রকৃত প্রস্তাবে এইভাবে ঠিকমত কার্য চলিলে আমার বিশ্বাস-অল্পকালের মধ্যেই প্রত্যেক ইউনিয়নে বিভিন্ন পেশা পরিচালনায় শিক্ষিত লোকের অভাব থাকিবে না। যদি প্রত্যেক জেলা এবং সাবডিভিসনের আঞ্জুমানগুলি এই বিষয়ে আন্তরিক চেষ্টা করেন, তবে আমার বিশ্বাস, তাঁহাদের কর্মে শুভফল দৃষ্টিগোচর হইবে। সভ্যগণ, আমরা এখন যে অবস্থায় উপনীত হইয়াছি, তাহা বড়ই চিন্তাজনক। এখনও আমাদের সমাজের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব। ইহাই চিন্তাশীলদের অভিমত। তর্ক-বিতর্ক দ্বারা আমাদের কর্তব্য স্থির করিতে হইবে এবং পরেই ইহার কর্মক্ষেত্রে অগ্রসর হইতে হইবে। আমাদের ভাবধারায় ঐকমত্য না হয়ে অনৈক্য সৃষ্টি হইতে পারে। এই সময় বিচক্ষণ নেতার নেতৃত্ব আবশ্যক। সুতরাং এই সময় আমাদের বিশেষ সাবধান হওয়া আবশ্যক এবং আমাদের ভাবী কার্য সমাধার জন্য চিন্তা-ভাবনা করিয়া নীতি নির্দ্ধারণ করা আবশ্যক।
সভ্যগণ, বালকদের শিক্ষার সংগে সংগে বালিকাদের শিক্ষার ব্যবস্থা না করিলে কোন জাতিই পূর্ণ সভ্যতা লাভ করিতে পারে না। কথা আছে-বাড়ী হইল দাতব্য প্রতিষ্ঠান। সুতরাং বালক-বালিকাদের শিক্ষারম্ভ নিজ নিজ বাড়ীতে মাতার সুস্থ তত্ত্বাবধানে হওয়াই কর্তব্য। শৈশব থেকে শিক্ষিতা মাতার তত্ত্বাবধানে বালক-বালিকাদের শিক্ষা আরম্ভ না হইলে প্রকৃত শিক্ষার ভিত্তি কখনই স্থাপিত হইতে পারে না। পারিবারিক শিক্ষাবিষয়ক প্রস্তাবটি নূতন নহে এবং সুখের বিষয়, আমরা এদিকে কতকটা অগ্রসর হইয়াছি। যে সময় ইসলাম ধর্মের উন্নতি এবং সভ্যতা জগতের মধ্যে অনুকরণীয় ও প্রশংসনীয় ছিল, সেই সময়ের ইতিহাস আলোচনা করিলে আমরা দেখিতে পাইব যে, মহিলাগণও শিক্ষা ও মানসিক উৎকর্ষে পুরুষদের অনুপাতে কোন অংশে পশ্চাৎপদ ছিল না; সুতরাং স্ত্রীশিক্ষার বিষয়টি মুসলমান সমাজে নূতন কিছু নহে। পুরাকালে মুসলমান স্ত্রীলোকগণ শিক্ষায় চরম উৎকর্ষ লাভ করিয়াছিলেন, ইহা সকলেই স্বীকার করিবেন এবং অনেক মহিলা হস্তলিখন, সূচিকর্ম, জরিকর্ম ইত্যাদি দ্বারা নিজের জীবিকা সৎভাবে নির্বাহ করিতেন, মুসলমানের ইতিহাসে এইরূপ দৃষ্টান্তের অভাব নাই। মুসলমান ধর্মশাস্ত্র মতে পুরুষ এবং স্ত্রীলোক-উভয়েরই সমভাবে জ্ঞানার্জন করা অবশ্য কর্তব্য। সুতরাং আমরা যদি স্ত্রীশিক্ষার প্রতি যথাযথভাবে মনোযোগী না হই, তবে আমাদের ধর্মীয় অনুশাসনকে লঙ্ঘন করা হইবে। গৃহিনী ও বয়স্কাদের পরদা রক্ষা করিয়া মহিলাদের শিক্ষাবিস্তারের জন্য গভর্নমেন্ট জানানা স্কুলের ব্যবস্থা করিয়াছেন। এই ব্যবস্থা আশানুরূপ ফলপ্রদ হয় কিনা দেখিবার জন্য গভর্নমেন্ট কেবল বড় বড় শহরে এই জানানা শিক্ষার প্রবর্তন করিয়াছেন। মফস্বলে মুসলমান-প্রধান পল্লীতে এইরূপ জানানা শিক্ষার ব্যবস্থা করা মুসলমানগণের কর্তব্য। এই জানানা স্কুলে ও বালিকা বিদ্যালয়ে কিরূপে শিক্ষার বন্দোবস্ত হইলে মুসলমান মহিলা এবং বালিকাদের উপযোগী হইবে, তাহা নির্ধারণ করিয়া গভর্নমেন্টের নিকট তাহার প্রচলন করার জন্য আবেদন করা কর্তব্য।
শিল্প, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার দিকে আমাদের মনোযোগ আকৃষ্ট হওয়া একান্ত কর্তব্য। যে জাতির মধ্যে কোনরূপ বর্ণ বা ধর্মের ভেদাভেদ নাই, যাহারা সকল পেশাকেই সম্মানজনক বস্তু বলিয়া মনে করে, তাহাদের মধ্যে কাহারও কাহারও বিশেষ কোন পেশার প্রতি অবজ্ঞা থাকা বড়ই আক্ষেপের বিষয়। বয়ন ও চিত্র বিদ্যালয়ে, কর্মকার ও ছুতার স্কুলের ক্লাসে মুসলমান ছাত্রসংখ্যা নিতান্ত কম। শিল্প শিক্ষার জন্য গভর্নমেন্ট এবং অন্যান্য সভা-সমিতি যেসকল ছাত্রবৃত্তি নির্ধারণ করিয়াছেন, মুসলমান ছাত্রগণ সেই সুবিধা পুরাপুরি গ্রহণ করিতেছে না। আমার মনে হয়, পূর্ববংগ এবং আসাম প্রদেশে মুসলমানগণের শিল্প শিক্ষা বিষয়ে মনোযোগী হওয়ার ইহাই উপযুক্ত সময়। বোম্বাই প্রদেশের মহামতি টাটা এবং স্যার করিম ভাই ইব্রাহীম সাহেবের অনুকরণ করার প্রকৃষ্ট সময় উপস্থিত হইয়াছে এই দুই মহাত্মা তাঁহাদের ছাত্রদের কারিগরি ও শিল্পশিক্ষার উদ্দেশ্যে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করিয়াছেন। জাতির উন্নতি কেবল এক উচ্চ শিক্ষার উপর নির্ভর করে না, অধ্যয়ন ও গবেষণার অন্যান্য শাখায়ও উন্নতি হওয়া আবশ্যক।
মহোদয়গণ—আমি এখন আমার বক্তব্য শেষ করিতে ইচ্ছা করি। যে অবস্থায় আমি সভাপতির আসন গ্রহণ করিয়াছি, তাহা আপনারা জ্ঞাত আছেন। সুতরাং আমার নিকট সুদীর্ঘ বক্তৃতা আপনারা আশা করিতে পারেন না। কিন্তু আমার এটি নিবেদন করা বোধ হয় অপ্রাসংগিক হইবে না। আপনারা অতি সত্বরই জেনারেল সেক্রেটারি সাহেবের সুবৃহৎ কার্য বিবরণী শুনিতে পাইবেন এবং আমার বিশ্বাস, তাহা হইতেই আপনারা মুসলমানগণের অতীত ও বর্তমানের শিক্ষা সম্বন্ধে বিস্তারিত বিবরণ জানিতে পারিবেন।[1]

Comments